Thursday , July 7 2022
Home / রোগ জিঞ্জাসা / ঘরোয়াভাবে জ্বর ঠোসা নিরাময়ের কার্যকরী উপায়

ঘরোয়াভাবে জ্বর ঠোসা নিরাময়ের কার্যকরী উপায়

ঘরোয়াভাবে জ্বর ঠোসা নিরাময়ের করা যায় । ঠোটের কোণায় কিংবা বর্ডারে একগুচ্ছ ফুসকুড়ি। সাধারণভাবে আমরা একে বলে থাকি জ্বরঠোস, জ্বর-ঠোসা বা জ্বরঠুঁটো। । এটাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ফিভার ব্লিস্টার বলেন। প্রকাশ পাবার ২-৩ দিনের মধ্যে ব্লিস্টারে ব্যথা অনুভব হলে তখন একে বলা হয় কোল্ড সোর।

ঘরোয়াভাবে জ্বর ঠোসা নিরাময়ের কার্যকরী এই ২ টি উপায় শিখে রাখুন
ঘরোয়াভাবে জ্বর ঠোসা নিরাময়ের কার্যকরী এই ২ টি উপায় শিখে রাখুন

এই সময় জ্বর (Fever) হলে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ভাবেন যে হয়তো করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। তবে এই ধারণাটি ভুল। করোনা ও সাধারণ জ্বরের(Fever) মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই ভয় না পেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
অনেকেরই জ্বর(Fever) হলে হলে বা দেহে কোনো সংক্রমণ হলে ঠোঁটের কোণে বা নাকের ভেতরে অথবা বাইরে ছোট ছোট ফুসকুড়ি দেখা দেয়। কখনো ঠোঁটের কোণ ফেটে যায় ও লাল দেখায়। সঙ্গে প্রচণ্ড ব্যথা করে ও অস্বস্তি হয়। এই অবস্থাকে জ্বর ঠোসা বলা হয়ে থাকে। যদিও এটি বড় কোনো সমস্যা নয়, তবে বেশ যন্ত্রণাদায়ক,

সাধারণত জ্বর (Fever) ঠোসার পেছনে হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস দায়ী। শরীরে কোনো কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে, যেমন কোনো সংক্রমণ বা জ্বরের(Fever) পর এমন সমস্যা বেশি হয়। এর প্রতিকারে ঘরোয়া দুটি উয়াপ বেশ কার্যকর। যা খুব দ্রুত এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক উপায় দুটি-

দুধের (honey)ব্যবহার

কটন বল এবং সামান্য দুধ (milk) নিন। কটন বলটি দুধে (milk) ভিজিয়ে ঘাঁয়ের ওপরে লাগিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করুন। ২ ঘণ্টা পরপর এটি ব্যবহার করুন। দুধে (milk) অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি ভাইরাল প্রপার্টি আছে। এটি কেবল সংক্রমণটি পরিষ্কার করার ক্ষেত্রেই নয়, আপনার ত্বককে শীতল করার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে।

মধুর ব্যবহার

আধা চামচ মধু (honey) নিন। এবার আঙ্গুলের সাহায্যে মধু ক্ষতস্থানে লাগান। ৫ থেকে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। দিনে দুইবার মধু ব্যবহার করুন। মধু অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রোপারটিস সমৃদ্ধ। এটি যে কেবলমাত্র সংক্রামিত কালশিটে নিরাময় করতে পারে তা নয়, ফুলে থাকা ত্বককেও শান্ত করে।

জ্বর ঠোসা যাদের বেশি হয়:
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৮০% মানুষই HSV-1 এ আক্রান্ত থাকেন। কিন্তু বেশিরভাগই সুপ্ত অবস্থায় থাকে এবং দশ বছর বয়সে প্রথম প্রকাশ পায়। প্রথমবার হওয়া ফিভার ব্লিস্টার সেরে যাবার পর HSV-1 স্নায়ুকোষে লুকিয়ে থাকে এবং জীবনে বারবার এর প্রকাশ ঘটে।

নিম্নোক্ত কারণগুলোর জন্য ফিভার ব্লিস্টার পুনরায় প্রকাশিত হতে পারে: কোন ইনফেকশন। মানসিক চাপ। মেয়েদের মাসিকের সময়। সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি।

সাধারণভাবে ৭-১৪ দিন উপসর্গ বর্তমান থাকলেও ৮-১০ দিনের মধ্যে মধ্যে ফিভার ব্লিস্টার এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। তবে প্রথম সপ্তাহে অ্যান্টি-ভাইরাল জেল লাগালে আরোগ্যে দ্রুত হয়।

তবে ১৪ দিনের বেশি সময় ব্যথাযুক্ত ফিভার ব্লিস্টার থেকে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। খালি চোখে দেখেই ফিভার ব্লিস্টার সনাক্ত করা সম্ভব। তবে ব্লিস্টারের ভিতরের তরল থেকে ডিরেক্ট ইমিউনোফ্লুরোসেন্স টেস্ট বা পলিমারেজ চেইন রিএ্যাকশনের মাধ্যমে ভাইরাস সনাক্ত করা যেতে পারে।

জ্বর ঠোসা প্রতিরোধের ৭ টি উপায়
১. ব্যবহৃত পানির গ্লাস, চামচ, লিপস্টিকসহ অন্যান্য কসমেটিক্স কারো শেয়ার না করা। ২. ছোটদের চুমু না দেয়া।
৩. ব্লিস্টার স্পর্শ করলে ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলা।
৪. মানসিক চাপ মুক্ত থাকা।
৫. চুম্বন এবং ওরাল সেক্স থেকে বিরত থাকা।
৬. সানস্ক্রিন ক্রিম, লিপ-বাম ব্যবহার করা।
৭. পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন।

শেয়ার করতে ভুলবেন না

Check Also

বহেড়ার

বহেড়ার ঔষধি গুণাগুণ জেনে রাখুন জেনে নিন

আশা করি সবাই ভাল আছেন। আজ আপনাদের মাঝে অরেকটি আর্টিকেল নিয়ে হাজির হলাম। আজ আপনাদের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.