Saturday , July 2 2022
Home / আঞ্চলিক / চট্টগ্রামের শিল্পে পানি সরবরাহে হালদা থেকে চোখ গেল মেঘনায়

চট্টগ্রামের শিল্পে পানি সরবরাহে হালদা থেকে চোখ গেল মেঘনায়

চট্টগ্রামের হালদা নদী দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র। অথচ এই নদী থেকেই বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে পানি সরবরাহ করতে চায় চট্টগ্রাম ওয়াসা। আর এতে আপত্তি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। এবার খোদ পরিকল্পনা কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, প্রকল্পটি অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট চারটি সংস্থা থেকে অনাপত্তিপত্র নেওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যয় আরও যাচাই–বাছাই করতে হবে।

চট্টগ্রামের
চট্টগ্রামের শিল্পে পানি সরবরাহে হালদা থেকে চোখ গেল মেঘনায়

চট্টগ্রামের শিল্পে পানি সরবরাহে হালদা থেকে চোখ গেল মেঘনায়

‘মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে পানি সরবরাহ প্রকল্প’ নিয়ে সম্প্রতি অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা। সেদিনই পরিকল্পনা কমিশন বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দিয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসাকে প্রকল্পটি ফেরত পাঠিয়েছে। বলেছে, পর্যবেক্ষণগুলো মেনেই আবার প্রকল্পের সারসংক্ষেপ পাঠাতে হবে।

জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মামুন আল রশীদ বলেন, ‘হালদা নদী খুবই স্পর্শকাতর। এটি রুই–জাতীয় মাছের প্রজননকেন্দ্র। সেখান থেকে পানি সরবরাহ করলে পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, আমরা জানতে চেয়েছি। পরিবেশ ও মৎস্য অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের বিষয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসা জানিয়েছে, এখনো তা নেওয়া হয়নি। তাই আমরা প্রকল্পটি ফেরত পাঠিয়েছি।’

এদিকে হালদা নদীকেন্দ্রিক প্রকল্প নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় চট্টগ্রাম ওয়াসা আরেকটি বিকল্পের দিকে ঝুঁকেছে। তারা চাঁদপুরের মেঘনা নদী থেকে পানি উত্তোলনের বিষয়ে একটি ধারণাপত্র ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বলে সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় চট্টগ্রাম ওয়াসাকে হালদার পানি উত্তোলনের ব্যাপারে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর এবং হালদা নদী রক্ষা কমিটির ছাড়পত্র নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

পরিকল্পনা কমিশনের নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, সভার কার্যবিবরণী লিখিতভাবে এলে পর্যবেক্ষণগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। তখন কমিশনের পর্যবেক্ষণগুলো পূরণ করে আবার ডিপিপি (প্রকল্প) পাঠানো হবে।

হালদায় আপত্তির কারণ

চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড এবং ফেনীর সোনাগাজীর প্রায় ৩০ হাজার একর জমিতে এখন চলছে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর স্থাপনের কাজ। হালদা নদীর মোহরা অংশ থেকে শিল্পনগরটির দূরত্ব ৬৫ কিলোমিটার। এই শিল্পনগরে পানি সরবরাহের জন্য ৩ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয় চট্টগ্রাম ওয়াসা।

ওয়াসা সূত্র জানায়, বর্তমানে হালদা নদীর আধা কিলোমিটার ভেতরে মোহরা পানি শোধনাগার-১–এর জন্য ৯ কোটি লিটার পানি উত্তোলন করা হয়। আর ছয় কিলোমিটার উজানে মদুনাঘাট পানি শোধনাগারের জন্য উত্তোলন করা হয় আরও ৯ কোটি লিটার। নতুন প্রকল্পে ১৪ কোটি লিটার পানি উত্তোলনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

হালদা নদী থেকে এ রকম ঢালাও পানি উত্তোলনের প্রস্তাবে আপত্তি তুলেছেন পরিবেশবাদীরা। তাঁদের যুক্তি, এত পানি
তুললে শুষ্ক মৌসুমে হালদায় পানির প্রাপ্যতা কমে লবণাক্ততা বাড়বে, যা মা মাছের জন্য বিপজ্জনক। তখন মা মাছের ডিম ছাড়ার প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হতে পারে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) চট্টগ্রাম ওয়াসার এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। আইডব্লিউএমের দেওয়া প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি জানায় হালদা রক্ষা কমিটিসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন। তাদের দাবি, পুরোনো তথ্য-উপাত্ত দিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাবের তথ্য না থাকা এবং সমীক্ষায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত না নেওয়ার অভিযোগও ওঠে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা নদী গবেষণাকেন্দ্রের সমন্বয়ক অধ্যাপক মনজুরুল কিবরীয়া প্রথম আলোকে বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে হালদা নদী থেকে পানি উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৩০ শতাংশ। এতে নদীতে যেমন পানির পরিমাণ কমবে, তেমনি পানির গুণগত মানও নষ্ট হবে। তখন হালদার মা মাছ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।

নজর এখন মেঘনা নদীতে

ওয়াসার প্রকৌশলীরা জানান, বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে ২০২৫ সালে দৈনিক পানির চাহিদা হবে ৩৪ কোটি লিটার, যা ২০৪০ সালে বেড়ে দাঁড়াবে ৯১ কোটি লিটার। তাই হালদার পাশাপাশি ফেনী নদী, মিরসরাই, মুহুরী প্রকল্প ও ভূগর্ভস্থ পানির মাধ্যমে শিল্পনগরে পানির চাহিদা মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে হালদা নদীর বিকল্প হিসেবে মেঘনা নদী থেকে পানি আনার পরিকল্পনা করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এ বিষয়ে একটি ধারণাপত্র ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। ওয়াসার প্রকৌশলীরা জানান, মেঘনা-পদ্মা ও ডাকাতিয়ার সংযোগস্থল থেকে পানি উত্তোলনের পরিকল্পনা করছেন তাঁরা। সে অনুযায়ী দুটি শোধনাগারের মাধ্যমে দৈনিক ৯০ কোটি লিটার পানি তোলা হবে। তবে সেখান থেকে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের দূরত্ব প্রায় ১৩২ কিলোমিটার। এ লম্বা পথজুড়ে পাইপলাইন স্থাপন করতে হবে। বুস্টিং স্টেশন নির্মাণ করতে হবে দুই থেকে তিনটি। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের অভ্যন্তরে ২০ কিলোমিটার বিতরণ লাইন স্থাপন করতে হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সাত–আট হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। বাস্তবায়নেও সময় লাগবে পাঁচ–সাত বছর।

ওয়াসার দুই প্রকৌশলী প্রথম আলোকে জানান, তাঁদের দেওয়া ধারণাপত্রের ওপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা পাওয়া গেলে মেঘনা নদী থেকে পানি আনার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা করা হবে।

সূত্র : প্রথমআলো

ই-কমার্স, ই–ভ্যালি, আলেশা মার্ট থেকে পণ্য বুঝে পেয়ে দাম পরিশোধ

ই-কমার্স, ই–ভ্যালি, আলেশা মার্ট থেকে পণ্য বুঝে পেয়ে দাম পরিশোধ

সারা দেশে ১৪ দিন ‘শাট ডাউনের’ সুপারিশ পরামর্শক কমিটির

সারা দেশে ১৪ দিন ‘শাট ডাউনের’ সুপারিশ পরামর্শক কমিটির

একা ঘরে হাউমাউ করে কাঁদছি, কী উত্তর দেব মুখ্যমন্ত্রীকে :পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়?

একা ঘরে হাউমাউ করে কাঁদছি, কী উত্তর দেব মুখ্যমন্ত্রীকে :পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়?

স্ট্রাইকারের কি অভাব পোড়াচ্ছে আর্জেন্টিনাকে?
https://www.latestbangla.com/?p=3934

সুস্থ থাকুন, নিজেকে এবং পরিবারকে ভালোবাসুন। আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান। আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন। পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। প্রতিদিনের আপডেট পেতে আমাদের Facebook লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন।
ধন্যবাদ।
Icon for this message
Latestbangla.com
News & Media Website

শেয়ার করতে ভুলবেন না

Check Also

রোহিঙ্গাদের

রোহিঙ্গাদের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে জেনে নিন

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে করোনার প্রতিরোধক টিকার আওতায় আনতে যাচ্ছে সরকার। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.