Monday , July 4 2022
Home / লাইফস্টাইল / পড়া মনে রাখার সহজ কৌশল জেনে নিন

পড়া মনে রাখার সহজ কৌশল জেনে নিন

কোন জাতীর অবস্থার পরিবর্তন করতে চায়লে সেই জাতীকে লেখাপড়ায় আগাতে হবে। পড়ালেখা বাদদিয়ে কোন দেশ জাতী উন্নতি করতে পারেনা। শিক্ষা দ্বারা যেমন মনের অন্ধকার কেটে যায়। ঠিক সারা দুনিয়ায় আলো ছড়ানো শিক্ষার মাধ্যমে সম্ভব। আর এটি ছাত্রজীবন থেকে শুরু হয়। তবে অনেক ছাত্র প্রচুর অধ্যবশায় করে কিন্তু পড়ামনে রাখতে পারে না। তারা পড়া মনে রাখার সহজ কৌশল জানে না। আর এই জন্য তাকে অধিক সময় ধরে পড়তে হয়। কিন্তু অনেক ছাত্র আছে লেখাপড়া শেখার সহজ কৌশল তাদের আয়ত্তে। ফলে অল্প পড়ে বেশি সময় মনে রাখতে পারে। এবং ছাত্রজীবনে তাড়ায় অধিকাংশ সময় সফল হয়। নিজেদের উন্নতির শিহরে আহরোন করায়। আজকে জেনে নিই পড়া মনে রাখার টিপস।

পড়া মনে রাখার
পড়া মনে রাখার সহজ কৌশল জেনে নিন

পড়া মনে রাখার সহজ কৌশল জেনে নিন

পড়া মনে রাখার সহজ কৌশল
আজকে হইতো অবাক হবেন কিভাবে দ্রুত পড়া মনে রাখা যায়। অধিক সময় পড়ে যে পড়া মনে রাখতে পারেন না আজকের পর থেকে খুব সহজে নিজের পড়া মনে রাখাতে পারবেন। পাঠ্যবই পড়লে মনে থাকে কম কিন্তু কোন গল্প, বা উপন্যাসের বই পড়লে দীর্ঘসময় মনে থাকে। এর কারণ পড়ার মধে কিছু টিপস আছে যাহা আপনে হইতো জানেন না। এখানে লেখাপড়া শেখার সহজ কৌশল গুলো জেনে নিই-

 

১) মেডিটেশন করে পড়তে বসাঃ
আমাদের চঞ্চল মন সবসময় এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ায়। একে একটি স্থানে রাখা বড়ই কঠিন কাজ। ঠিক পড়তে বসলে পৃথিবীর সকল বস্তু মাথায় এসে হাজির হয়। মুখে মুখে শুধু পড়া হয় কিন্তু মন থাকে অন্য জায়গায়। তাই সবার আগে মনকে পড়ার টেবিলে বসাতে হবে। এটা করা কিন্তু অনেক কঠিন ব্যপার মুখে বলা সহজ করা কঠিন। যদি একবার মন পড়ার টেবিলে বসানো যায় তখন খুব দ্রুতগতিতে পড়া মুখস্ত হতে থাকবে। পাঠ্য বইয়ের সকল পড়া তখন সহজে নিজের আয়ত্তে চলে আসবে। আর এই জন্য পড়ার আগে ৫থেকে ১০ মিনিট মেডিটেশন করে পড়তে বসার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটা করা কিন্তু কোন কঠিন কাজ না। পড়ার টেবিলে বসে বসে মেডিটেশন করা যায়।

২) নিজ থেকে পড়তে বসাঃ-
নিজের আগ্রহের উপর তার সফলতা নির্ভর করে। অনেক ব্যক্তি আছে তার জীবনের প্রথম দিকে অনেক ব্যর্থতা আছে। কিন্তু তার পরেও তার আগ্রহ ছিল প্রবল তাই সে সফলতা হতে পেরেছে। এই রকম ব্যক্তি সমাজে হাজার হাজার আছে। তাই নিজ থেকে নিজের সফলতার কথা চিন্তা করে পড়ার টেবিলে বসতে হবে। এতে অনেক কঠিন বিষয় সহজ মনে হবে। লেখাপড়া নিজে কঠিন মনে করলে কঠিন আর নিজে সহজ মনে করলে এটি অনেক সহজ। কারণ এই পথে শুধু আমি একাই চলছি না এই রকম কোটি কোটি মানুষ এই পথ ধরে গন্তর্বে পৌঁছে যাচ্ছে। তাই নিজের প্রবল আগ্রহ নিয়ে পড়তে বসলে মুখস্ত হবে তাড়াতাড়ি।

৩) বড় অংশ কে ছোট করে পড়াঃ-
এটা কিন্তু সত্য অনেক বড় পড়া একবারে মুখস্ত করা কঠিন কাজ। তাই বড় অংশকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে পড়লে দ্রুত মনে থাকবে। অনেক ছাত্র এই কৌশল না জানার জন্য তারা অধিক সময় পড়াতে থাকে কিন্তু পাঠ বই মুখস্ত হয় না। তখন পড়ার প্রতি অনিহা চলে আসে। এবং আস্ত আস্তে পড়ার আগ্রহটা অনেক কমে যায়। তাই এই বিষয় গুলো এড়িয়ে চললে ছাত্রজীবন অনেক সুখময় হবে।

৪) অধ্যায়ের অংশকে ভাগ করাঃ
একটি অধ্যায়ে বেশ কিছু বিষয় থাকে। সকল বিষয় এক সাথে পড়লে মনে রাখা সবার জন্য কঠিন। তাই পড়তে বসে অধ্যায়ের সকল অংশকে ভাগ ভাগ করে পড়ার চেষ্টা করা। এবং ঐ অধ্যায়ে যে বিষয় গুলো একই রকম সেই গুলো একত্রে করে পড়া তাহলে নিজের কাছে পড়া সহজ মনে হবে। এবং কনসেপ্টটা পরিস্কার ভাবে বুজা যাবে। ফলে নিজ থেকে পড়ার প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে। এই জন্য ক্লাসের পড়ার পাশাপাশি নিজে অধ্যায়ের খুটিনাটি বিষয়গুলো পড়তে হবে।

 

৫) লিখে বা ছবি এঁকে পড়া ঃ-
অনেকেই বলে একবার লিখা তিনবার পড়ার সমান। তাই যখন কোন পাঠ্যবই পড়া হয় তখন সঙ্গে সঙ্গে খাতায় লিখলে ঔপড়া দ্রুত মুখস্ত হয়। এবং দীর্ঘদিন পড়া মনে থাকবে। আমাদের মস্তিক ছবি বা লিখা জিনিস দীর্ঘসময় মনে রাখতে পারে। তাই পড়ার সময় নিজে চিত্রের মাধ্যমে পড়লে ঔপড়া আপনার আনান্দ দিবে। এবং বেশিদিন মনে রাখেত সাহায্য করবে। ফলে পরীক্ষায় প্রশ্নের উত্তর দেয়া অতি সহজ হবে। পরীক্ষার হলে মনে পড়বে আপনার আঁকানো চিত্রের কথা। তাই যখনই কোন বিষয় পড় হয় লিখে বা ছবি এঁকে পড়ালে মনে থাকে। এটা একটি পড়া মনে রাখার সহজ কৌশল ।

৬) কালারিং বা মার্কার পেন ব্যবহার করা ঃ-
বর্তমান সময়ের পড়া সৃজনশীলতা হওয়ায় অনেক খুটি নাটি পড়তে হয়। এবং একটি অধ্যায়ে সকল বিষয় একই গুরুত্বের নয়। কিছু বিষয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ তাই এটি কালারিং বা মার্কার করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার সময় সকল বিষয় রিভিশন দেয়া সম্ভব হয় না। তাই কালারিং করা থাকলে ঐগুলো রিভিশন দেয়া সহজ হয়। এবং এই গুলো মনে রাখা সহজ হয়। অনেক ছাত্র এটি না করার কারনে পরীক্ষা সময় রিভিশনের অভাবে পরীক্ষা ভালো দিতে পারে না। এই জন্য প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর পড়ার সময় অবশ্যই কালারিং বা মার্কার পেন থাকতে হবে। যখনই কোন ইনপটেন্ট বিষয় চোখে পড়বে সঙ্গে সঙ্গে মার্ক করে রাখবে। এবং পড়বর্তি সময়ে ঐ পড়া মুখস্ত করে নিতে পারে।

৭) সামারি করে পড়া ঃ-
আমাদের ব্রেইন দশটি কম্পিউটার এর চায়তে বেশি কাজ করে। এর ক্ষমতা অনেক বেশি কিন্তু আমরা অনেকেই এটিকে কাজে লাগাতে পারি আবার অনেকেই কাজে লাগাতে পারিনা। মস্তিক গুসালো বা সাজনো জিনিস বেশিদিন মনে রাখতে পারে এলেমেলো জিনিস অল্পদিন মনে থাকে। তাই আপনার পড়া মনে রাখতে পড়াটি সুন্দর করে একটি সামারি করে নিন। এবং কিছু সময় এই সামারি করা পড়া পড়েন দেখবেন খুব তাড়াতাড়ি মুখস্ত হচ্ছে। এবং অনেক দিন পরে এই বিষয় আপনার মনে আছে। এই ভাবে পড়লে দীর্ঘসময় মনে থাকবে। এবং পড়ার প্রতি মনোবল বেড়ে যাবে।

৮) বইয়ের পিছনে সামারি করা ঃ-
বইয়ের পিছনে সাদা অংশে ঐ বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো লিখে রাখতে হবে। কারণ পরীক্ষার সময় আসলে ঐ গুলো যেন রিভিশন দেয়া যায়। আর মুখস্ত পড়াও যদি পরীক্ষার আগে রিভিশন না দেওয়া হয় তাহলে পরীক্ষার হলে উত্তর করা অনেক কঠিন । এই জন্য নিজ থেকে বইয়ের কোন অধ্যায় বা পেজ নাম্বার দিয়ে বইয়ের পিছনে লাগিয়ে রাখতে হবে। যখন সুযোগ পাওয়া যাবে তখনই পড়াটি রিভিশন দিতে হবে।

৯) অধিক রিভিশন দেওয়া ঃ-
অনেক গবেষণায় দেখা গেছে মনোযোগ সহকারে কোন তথ্য মস্তিকে গেলে সেটি সাত দিন পর্যন্ত মাথায় থাকে। আর এটি ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রায় হুবুহু মনে থাকে। তাই ক্লাসে বা প্রাইভেটে যে কোন বিষয় পড়ানো হয় তা বাড়িতে এসে আবার পড়া । তাহলে ঐপড়াটি বুজতে সহজ হবে এবং সহজে অনেক দিন মনে থাকবে। মানুষ ভুলে যাবে এটাই স্বাভাবিক ভুলে যাওয়া দোশের কিছু নেয়। কিন্তু ভুলে যাওয়ার আগে যদি রিভিশন দেওয়া হয় তাহলে পড়াটি বার বার মনে থাকবে।

১০) বুঝে বুঝে পড়া ঃ
কোন বিষয় পড়ার সময় অবশ্যই ঐবিষয়ে খুঁটিনাটি বুঝার চেস্টা করা। যখন কোন ছাত্রছাত্রী বুঝে বুঝে পড়বে তখন তার পড়া মুখস্ত হবে তাড়াতাড়ি। এবং ঐ পড়া দীর্ঘদিন তার মনে থাকবে। আর এটি লেখাপড়া শেখার সহজ কৌশল এর মধ্যে একটি। আমরা অনেকেই না বুঝে শুধু পড়া মুখস্ত করি। কিন্তু এটি হইতো অল্প সময় কাজে লাগবে। কিছুদিন পরে এই পড়া ভূলে যাওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশি। তাই অনেকেই বলে একবার বুঝে পড়া দশ বার না বুঝে পড়ার সমান। এই পড়া মনে রাখার সহজ উপায় জেনে নিয়মিত পড়লে সফলতা আপনার সামনে এসে হাজির হবে।

১১) অন্যকে শেখানোর চেস্টা করা ঃ-
নিজে যা শিখা হয় তা অন্যকে শিখালে ঐবিষয় অনেক দিন মনে থাকে। কারণ বিদ্যা দান করলে কখনো কমে না বরং তা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। এই জন্য নিজে শিখে ঐবিষয়ে সকলের মাঝে আলোচনা করা বা সহপাঠিকে শেখানোর চেষ্টা করা। ফলে পড়া মনে থাকবে অনেক দিন।

১২) দলগত হয়ে পড়া ঃ-
একে অনেকেই গ্রুফ স্টাডি বলে থাকে। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করা হয় তখন এই পড়ার বিকল্প কিছু নেয়। তাই সহজে বুঝা ও মনে রাখার জন্য দলগত ভাবে পড়লে খুব দ্রুত পড়া মুখস্ত হবে। আর আলোচনার মাধ্যমে মস্তিকে যেটি প্রবেশ করবে তা অনেক সময় মনে থাকে। নিজেদের মধ্যে যেমন ভাত্রিত্ববোধ গড়ে উঠবে আবার পাঠবই অধ্যয়ন করা হবে। দলগত ভাবে পড়া মনে রাখার সহজ উপায় যে ভাবে পাওয়া যায়। আর অন্য কোন ভাবে তা পাওয়া যায় না।

আরো কিছু পোস্ট আপনার জন্য পড়তে পারেন

মোবাইল দ্রুত চার্জ করার টিপস জানলে অবাক হবেন?

https://www.latestbangla.com/archives/3012

ফোন পানিতে ভিজলে যা করবেন জেনে নিন এক ঝলকে?

https://www.latestbangla.com/archives/3009

মোবাইল ফোনের ব্যাটারির যত্ন জেনে নিন

https://www.latestbangla.com/archives/3006

জেনে নিন ডাবের শাঁস আমাদের জন্য কতটা উপকারী

https://www.latestbangla.com/archives/2897

পেট সমতল রাখতে গুরুত্বপূর্ন স্বাস্থ্যকর নাস্তা

https://www.latestbangla.com/archives/2902

সুস্থ থাকুন, নিজেকে এবং পরিবারকে ভালোবাসুন। আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান। আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন। পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। প্রতিদিনের আপডেট পেতে আমাদের Facebook লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন।
ধন্যবাদ।

শেয়ার করতে ভুলবেন না

Check Also

বিশ্বের

বিশ্বের সবচেয়ে সস্তা ১০ শহর

২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বব্যাপী জীবনযাত্রা খরচের সূচক। জরিপের পরিচালনা এবং প্রতিবেদন প্রকাশনায় ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.