Saturday , July 2 2022
Home / রুপচর্চা / সৌন্দর্য্য বাড়ানোর কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়

সৌন্দর্য্য বাড়ানোর কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়

সৌন্দর্য্য বাড়াতে রঙবেরঙের বিজ্ঞাপন দেখে লোভে পরে হয়ত কখনো আমরা নানান ধরনের সৌন্দর্য সামগ্রী কিনে ফেলি । কিন্তু এটা চিন্তা করিনা যে জিনিসটা আমাদের ত্বকের জন্য উপযুক্ত কিনা ! হয়ত ক্ষণিকের জন্য তা ত্বকে কিছুটা উপকার করলেও, তাতে ব্যবহৃত ক্ষতিকারক পদার্থ বা কেমিকেল কিছুদিনের পর থেকে ত্বকের উপর প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে । যার ফলে পঁচিশ পেরোনোর পরেই ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায়।

সৌন্দর্য্য
সৌন্দর্য্য বাড়ানোর কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়

সৌন্দর্য্য বাড়ানোর কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়

তাই কেননা এইসব বাজারচলতি জিনিসের বদলে ঘরোয়া ভাবে ত্বকের যত্ন নেওয়া যাক , তাতে ত্বক যেমন কেমিকেলের বিষাক্ত প্রভাব থেকে রেহাই পাবে আর অতিরিক্ত খরচ করারও প্রয়োজন পরবে না।

1. ঘি বা “ঘৃত”(আয়ুর্বেদীয় উচ্চারণ)

ভালো মশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার – ঘি এর মধ্যে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। সুতরাং ত্বকের পক্ষে একটি খুব ভালো ময়েশ্চারাইজার হল ঘি । শুষ্ক ত্বক, খসখসে ত্বক ইত্যাদি সমস্যায় ভালোভাবে ঘিয়ের মাসাজে ত্বক হয়ে ওঠে মোলায়েম ও সুন্দর । বার্ধক্য জনিত দাগ, মেচেদার ছোপ, কালচে ভাব ইত্যাদি দূর করতেও ঘিয়ের মাসাজ খুবই প্রয়োজন।

চুলের সমস্যায় ঘি এর ব্যবহার – শুষ্ক ,উস্কো -খুস্কো চুল এর ক্ষেত্রে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েলের সাথে সামান্য ঘি মিশিয়ে তা চুলে লাগালে চুল সিল্কি ও মোলায়েম হয় এবং সাদা চুলের সমস্যা থেকেও রেহাই পাওয়া যায়।

শীতে শুষ্ক ঠোঁটের সমস্যা রোধে – শীতে শুষ্ক ঠোঁট সবারই সমস্যা। ঠোঁট ফেটে যাওয়া, ঠোঁটের চামড়া উঠে গিয়ে রক্ত বার হওয়া ইত্যাদি রোধে ঠোঁটের ওপর ঘি হালকা ভাবে ম্যাসাজ করতে হবে। ঘিয়ের তেলতেলে ভাব ঠোঁটের চামড়ার ওপর একটি স্তর তৈরি করে এবং শীতকালের আর্দ্রতা থেকে ঠোঁটকে সুরক্ষা প্রদান করে।

পা ফাটার সমস্যা রোধে – অনেকের শুধু শীতকালে পা ফাটে, কারও কারও আবার সারা বছরই পা ফাটার সমস্যা দেখতে পাওয়া যায় । এক্ষেত্রে রাতে শোবার সময় ঘিয়ের নিয়মিত মাসাজে পা ফাটার সমস্যা প্রতিরোধ করা যায় ।

2. হলুদ

ব্রণ প্রতিরোধে – অনিয়মিত জীবন যাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করার ফলে ব্রণ আজকালকার একটি অতি সাধারণ সমস্যা। সাধারণত কম বয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি পরিমাণে দেখতে পাওয়া যায় ।এছাড়াও কিছু হরমোনাল কারণ, বাইরের ধূলোবালি , তৈলাক্ত ত্বক ব্রণ হওয়ার জন্য দায়ী। কারণ সে যাই থাকুক না কেন হলুদের মধ্যে থাকা কিছু বিশিষ্ট উপকরণ এই সমস্যার প্রতিরোধে খুব ভালো কাজ করে ।

ব্যবহার বিধি

l হলুদ গুঁড়োর সাথে এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে তা শুধুমাত্র ব্রণের ওপর লাগান।
l শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে নিন ।হলুদের মধ্যে থাকা অ্যান্টিসেপটিক গুণগুলি ব্রণ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং লেবুর মধ্যে থাকা ব্লীচিং গুণাগুণ ব্রণের দাগ দূর করে ।
মুখের লোম ওঠাতে সাহায্য করে – মুখে এরকম কিছু অবাঞ্ছিত লোম থাকে যা মুখ কে করে তোলে দৃষ্টিকটু ।
অনেককে তাই থ্রেডিং বা ওয়্যাক্সিং এর পন্থা অবলম্বন করে। এক্ষেত্রেও হলুদের নিয়মিত ব্যবহার লাভদায়ক।

ব্যবহার বিধি

l হলুদের সাথে সামান্য জল মিশিয়ে একটি পুরু মিশ্রণ তৈরি করে অবাঞ্ছিত লোমের ওপর লাগান ।
l শুকিয়ে গেলে লোমের গ্রোথের উল্টো দিকে মাসাজ করুন। দেখবেন অবাঞ্ছিত লোমের সমস্যা অনেকটাই কমে গেছে।
চোখের তলায় কালো ভাব এবং রিংকেলস কমায় – অত্যধিক চিন্তা, পরিশ্রম এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই সমস্যা গুলোর আমাদের সবাইকেই সম্মুখীন হতে হয় । এক্ষেত্রেও হলুদ কাজে লাগে ।

ব্যবহার বিধি

l হলুদের সাথে মাখন এবং আখের রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরী করুন।
l রাতে শোবার আগে মধ্যমার সাহায্যে চোখের তলায় এবং সারা মুখে ভালো করে ম্যাসাজ করুন ।

3. নারকল তেল

মেকআপ রিমুভার হিসেবে নারকেল তেলের ব্যবহার – আপনারা সারা দিন যাই কাজ করুন না কেন, রাতে শোবার আগে মেকআপ তোলাটা খুবই দরকার এবং তার জন্য আমরা নানান ধরনের বাজার চলতি মেকআপ রিমুভার দাম দিয়ে কিনে থাকি অথচ আমাদের বাড়ির মধ্যেই অপূর্ব প্রাকৃতিক মেকআপ রিমুভার মজুদ আছে।

ব্যবহার বিধি

l রাতে শোবার আগে কয়েক ফোঁটা নারকেল তেল আপনার মুখের ওপর লাগান ।
l এরপর একটি ভেজা তুলো বা কাপড় দিয়ে আলতো করে মুখের মেকআপ তুলে নিন ।
দেখবেন বাজার চলতি রিমুভারের থেকে নারকেল তেল খুব ভাল কাজ করে এবং তা আপনার ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টিও যোগায়।
এক্সফলিয়েটর হিসেবে নারকেল তেলের ব্যবহার:- মুখের মৃত কোষ তুলে নতুন কোষ তৈরি করতে এক্সফলিয়েটরের ভূমিকা অপরিসীম।

ব্যবহার বিধি

এক্ষেত্রে নারকেল তেলের সাথে বেকিং সোডা মিশিয়ে মুখের উপর লাগানো যেতে পারে ।
এটি খুব ভাল স্ক্রাবের কাজ করে তবে সেনসিটিভ স্কিনে বেকিং সোডার ব্যবহার না করে নারকেল তেলের সাথে চিনিও ব্যবহার করতে পারেন।
শুষ্ক ত্বকের যত্নে নারকেল তেলের ব্যবহার – যাদের খুব বেশি শুষ্ক বা ড্রাই স্কিন তাদের স্নানের পর চামড়া শুকিয়ে যায় ।শীতকালে এ সমস্যা বেশি দেখতে পাওয়া যায় । এক্ষেত্রে স্নানের জলের সাথে কয়েক ফোঁটা নারকোল তেল মিশিয়ে ব্যবহার করলে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা থেকে অনেকটাই রেহাই পাওয়া যাবে।

ডার্ক সার্কেল বা চোখের তারার কালো দাগ দূর করতে – কাজের প্রেসার এর জন্য যদি ডার্ক সার্কেল আপনার একটি সমস্যা হয়ে থাকে , তাহলে রাতে শোবার আগে শুধুমাত্র নারকেল তেল খালি হাতে চোখের তলায় মাসাজ করে শুয়ে পড়ুন। নারকোল তেল চোখের রক্ত সঞ্চালন কে স্বাভাবিক করবে ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই চোখের তলার কালো ভাব দূর হয়ে যাবে।

4. মধু

প্রাচীনকাল থেকেই মধু নানান কাজে ব্যবহার করা হয়ে আসছে । প্রাচীন পুঁথিগুলিতে মধুর ব্যবহার বিশেষভাবে উল্লেখিত। আজ আমরা জানব ত্বকের যত্নে মধুর গুনাগুন এর কথা।

শুষ্ক ত্বকে মধুর ব্যবহার – ভারতীয় শুষ্ক ত্বকের জন্য মধু অত্যন্ত কার্যকরী। মধুর মধ্যে থাকা মশ্চারাইজার ত্বকের শুষ্কতা কমিয়ে ত্বকে লাবণ্য আনে।

বার্ধক্যের চিহ্ন প্রতিরোধের জন্য – মধুর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ধর্মটি বার্ধক্যের চিন্হ হ্রাস করে ত্বককে করে তোলে লাবণ্যময়ী । এছাড়াও ফাটা ঠোঁট ও গোড়ালি তে মধু মাখলে সুফল পাওয়া যায়।

ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ প্রতিরোধে – মধু ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে প্রতিরোধ করে।

রেফারেন্স :https://www.stylecraze.com

আরো কিছু পোস্ট আপনার জন্য প্রয়োজনে দেখতে পারেন

প্রসাধনী ব্যবহারে চোখের কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে ?

পাকিস্তানে নারীদের ওপর যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণ নিয়মিত ঘটনা

প্রতিদিন একশটি চুল পড়াকে স্বাভাবিক বলেন বিশেষজ্ঞরা।

অভ্যন্তরীণ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ

সময়টা ভালো যাচ্ছে না বিরাট কোহলির।

চোখ আরও আকর্ষণীয় করে তোলার রহস্য

আমাদের প্রদত্ত কনটেন্ট যদি আপনার ভালো লাগে, তাহলে শেয়ার করতে ভুলবেন না কিন্তু।

প্রতিদিনের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন।
ধন্যবাদ।

শেয়ার করতে ভুলবেন না

Check Also

ক্র্যানবেরী

রূপচর্চায় ক্র্যানবেরী গুনাগুন জানুন?

আশা করি সবাই ভাল আছেন। আজ আপনাদের মাঝে অরেকটি আর্টিকেল নিয়ে হাজির হলাম। আজ আপনাদের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.