Tuesday , January 18 2022
Home / আন্তর্জাতিক / চীনে বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে মানুষ

চীনে বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে মানুষ

চীনের মধ্যাঞ্চলে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০২-এ পৌঁছেছে। নিখোঁজ রয়েছেন অনেক মানুষ। চীনা কর্তৃপক্ষের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায় গত সপ্তাহের তুলনায় মৃত্যুর হার ৩ গুণ বেড়েছে। চীনে বন্যা

চীনে-বন্যা
চীনে-বন্যা-পরিস্থিতির-মারাত্মক-বিপর্যয়ের-মুখে-মানুষ

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হেনান প্রদেশের রাজধানী ঝেংঝু। ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় সেখানে মারা গেছেন ২৯২ জন এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৪৭। জুলাই মাসের ১৭ তারিখ থেকে ৩ দিনে ঝেংঝুতে ৬১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে যা শহরটিতে এক বছরে গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় সমান। বেশিরভাগ মানুষ মারা গিয়েছেন বদ্ধ আন্ডারগ্রাউন্ড কার পার্কিং এবং পাতাল রেলে।


পরিস্থিতি মোকাবেলায় শহরের ও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পরেছে। পাতাল রেলে নিহত একজনের স্ত্রী রেল ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের ব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করছেন চীনের জনগণ।

চীনা ব্লগ উইবো তে একজন লিখেছেন, ‘শুধু জাঁকজমকের পিছে শুধু টাকা খরচ করা হচ্ছে, আমাদের নেতৃত্ব পরিবর্তন করতে হবে এবং সব কিছু নতুন করে শুরু করতে হবে।’

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের সমালোচনা সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। ঝেংঝুর মেট্রোর সামনে বন্যায় নিহতদের স্মরণে স্থাপিত একটি ফুলেল স্থাপনা বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে বিদেশি সাংবাদিকদের হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ এসেছে। আল জাজিরা জানায়, মেট্রো ব্যবস্থাপনার বাইরে বন্যা পরিস্থিতি রিপোর্ট করার সময় তাদের সংবাদকর্মীদের অনুসরণ করা হয়েছে। দুর্যোগের সংবাদ প্রকাশে নিয়জিত বিদেশি সাংবাদিক হয়রানিতে ‘গভীর উদ্বেগ’প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে গত মাসে চীনের হেনান প্রদেশে বন্যায় এখন পর্যন্ত ৩০২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও ৫০ জন। প্রদেশটিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কমবেশি ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ। প্রায় নয় হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে চীনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
হেনান চীনের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ও দরিদ্রতম একটি প্রদেশ। সেখানে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি ও অসংখ্য কারখানা রয়েছে। বন্যায় মৃত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই প্রদেশটির ঝেংঝউ শহরের।গতকাল সোমবার ঝেংঝউয়ের মেয়র হউ হং সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শহরের ভূগর্ভস্থ কার পার্কিংয়ে ৩৯ জনের মরদেহ পাওয়া যায়। এ ছাড়া শহরের পাতালরেল ৫ নম্বর লাইন প্লাবিত হয়ে আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়।

গত মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ঝেংঝউয়ের পাতালরেলের ভেতরে বন্যার পানি ঢুকে যাওয়ার পর যাত্রীদের বেঁচে থাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে বগির ছাদ কেটে তাঁদের বের করা হয় বলে জানায় স্থানীয় গণমাধ্যম। গত সপ্তাহে ওই পাতালরেলের স্টেশনে মৃত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
জুলাইয়ে ঝেংঝউ শহরে টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে পাতালরেলের স্টেশনসহ রাস্তাঘাট ডুবে যায়। এ সময়ের মধ্যে শহরটিতে এক বছরের সমপরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়। স্থবির হয়ে পড়ে শহরটির সব কার্যক্রম। বন্যার কারণে হেনান প্রদেশের অনেক বাঁধ ভেঙে পড়ার আশঙ্কার মুখে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোয় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।    চীনে বর্ষাকালে প্রায় প্রতিবছরই বন্যার দেখা দেয়। দেশটিতে নদীর তীরে ব্যাপক হারে বাঁধ নির্মাণের জন্য বহুলাংশে দায়ী বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুস্থ থাকুন, নিজেকে এবং পরিবারকে ভালোবাসুন। আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান। আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন। পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। প্রতিদিনের আপডেট পেতে আমাদের Facebook লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন।

ধন্যবাদ।

শেয়ার করতে ভুলবেন না

Check Also

বঙ্গবিদ্যা পরিষদের

বঙ্গবিদ্যা পরিষদের আয়োজনে ‘তৃতীয় আন্তর্জাতিক

বঙ্গবিদ্যা পরিষদের আয়োজনে ‘তৃতীয় আন্তর্জাতিক আন্তর্জালিক আলোচনা চক্র’ বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের আন্তর্জাতিক বঙ্গবিদ্যা ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *