Thursday , September 23 2021
Home / স্বাস্থ্য সেবা / বঙ্গভ্যাক্সের অ্যানিমেল ট্রায়ালে মিলেছে কার্যকরী অ্যান্টিবডি

বঙ্গভ্যাক্সের অ্যানিমেল ট্রায়ালে মিলেছে কার্যকরী অ্যান্টিবডি

‘বঙ্গভ্যাক্সের অ্যানিমেল ট্রায়ালে মিলেছে কার্যকরী অ্যান্টিবডি’ দেশীয় ভ্যাকসিন বঙ্গভ্যাক্সের অ্যানিমেল ট্রায়ালে ইতিবাচক ফল মিলছে। অনুমোদন পেলে নভেম্বরে মানবদেহে ট্রায়ালের প্রত্যাশা গ্লোব বায়োটেকের।

‘বঙ্গভ্যাক্সের
‘বঙ্গভ্যাক্সের অ্যানিমেল ট্রায়ালে মিলেছে কার্যকরী অ্যান্টিবডি’

‘বঙ্গভ্যাক্সের অ্যানিমেল ট্রায়ালে মিলেছে কার্যকরী অ্যান্টিবডি’

তবে বিএমআরসির বিরুদ্ধে উঠেছে অসহযোগিতার অভিযোগ।

দেশীয় ভ্যাকসিন বঙ্গভ্যাক্স মানবদেহে প্রয়োগের আগে নৈতিক অনুমদন পেতে বানরের দেহে প্রয়োগের শর্ত বেধে দেয় বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদে (বিএমআরসি)। সেই অনুসারে গত ১ আগস্ট থেকে বানরের দেহে ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করে সুফল পাওয়ার দাবি করেছে গ্লোব বায়োটেক।

শনিবার (০৪ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, গত ১ আগস্ট থেকে আমাদের ট্রায়াল শুরু হয়েছে। চলবে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত। ট্রায়াল শেষে অক্টোবরেই বিস্তারিত প্রতিবেদন বিএমআরসিতে জমা দেওয়া হবে। এরপর যদি তারা অনুমোদন দেয়, তাহলে নভেম্বরের শুরুতে আমরা মানবদেহে ট্রায়ালে যেতে পারবো।

প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নীতিগত অনুমোদনের জন্য চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি প্রটোকলসহ বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদে আবেদন জমা দেয় গ্লোব। বিএমআরসির সংশ্লিষ্ট কমিটি প্রোটোকল পর্যালোচনা করে প্রায় শতাধিক বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি চিঠি দেয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি তাদের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সংশোধিত প্রোটোকল আবারো জমা দেয় গ্লোব বায়োটেক। পাঁচ মাস পরে গত ২২ জুন বলে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আগে বানর অথবা শিম্পাঞ্জির ওপর টিকার ট্রায়াল সম্পন্ন করার শর্ত জুড়ে দেয় বিএমআরসি।

 

মহিউদ্দিন জানান, চিঠি পেয়ে আমরা অ্যানিমেল ট্রায়ালের প্রস্তুতি শুরু করি। ১ আগস্ট থেকে বানরের ওপর ট্রায়াল শুরু করেছি আমরা। প্রথমে আমরা বিদেশে অ্যানিমেল ট্রায়ালের চেষ্টা করেছিলাম। ভারত আমাদের জিটুজি পদ্ধতিতে আবেদন করতে বলেছিল। এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে আমরা সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু আশানুরূপ ফল পাইনি। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো বলছে, এমআরএনএ টিকার বানরের ওপর পরীক্ষার দরকার নেই। অথচ বিএমআরসি বলছে, এই ট্রায়াল করতেই হবে। তাই বাধ্য হয়ে আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করে বন বিভাগের অনুমোদন নিয়ে বানর সংগ্রহ করেছি আমরা।‘বঙ্গভ্যাক্সের

‘তবে কতগুলো বানরের ওপরে ট্রায়াল হবে সে বিষয়টি প্রকাশ করেনি গ্লোব। তবে ট্রায়াল শেষ হলে বিস্তারিত জানাবো হবে বলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে আমরাই প্রথম বানরের ওপর ট্রায়াল করছি। নিঃসন্দেহে দেশের বিজ্ঞান গবেষণায় এটি একটি মাইলফলক।’

মহিউদ্দিন বলেন, ‘বানরের ওপর ট্রায়ালের প্রাথমিক ফলাফলে টিকাটি নিরাপদ মনে করছি আমরা। করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টসহ বিশ্বে এখন পর্যন্ত ১১টি ভ্যারিয়েন্টে বিষয়ে জানা গেছে। এই ১১টি ভ্যারিয়েন্টের সিকোয়েন্স অ্যানালাইজ করে আমাদের ভ্যাকসিনের সিকোয়েন্স মিলিয়ে দেখেছি, প্রতিটি ভ্যারিয়েন্ট প্রতিরোধে বঙ্গভ্যাক্স কার্যকর।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকার মডার্নার টিকা মডিফায়েড এমআরএনএ দিয়ে তৈরি। ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকায় এমআরএনএ’র সঙ্গে ভাইরাসের তিনটি প্রোটিন যোগ করা হয়েছে। আমাদের টিকাটি প্রাকৃতিক এমআরএনএ দিয়ে তৈরি। তাই এটি সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ও কার্যকর হবে বলে আশা করছি। মডার্না ইদুরের ওপর পরীক্ষা করেই মানবদেহে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে পরীক্ষা করেছে। তৃতীয় পর্যায়ে মানবদেহে ও বানরের ওপর একসঙ্গে পরীক্ষা করেছে। ফাইজার-বায়োএনটেক মানবদেহে ও প্রাণীদেহে একসঙ্গে পরীক্ষা করেছে। আমরা মডার্নার প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মানবদেহে পরীক্ষা করতে চেয়েছিলাম। যে কারণে ইদুরের ওপর পরীক্ষার পরে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে মানবদেহে ট্রায়ালের নীতিগত অনুমোদন চাওয়া হয়েছিল।’ ‘বঙ্গভ্যাক্সের

গ্লোব বায়োটেকের পক্ষে জানানো হয়, আমাদের প্রত্যাশা ছিল বিএমআরসি আমাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। অথচ তাদের সহযোগিতা আমরা পাইনি। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নীতিগত অনুমোদন চাওয়ার পরে পাঁচ মাস তারা সম্পূর্ণ নীরব থাকলো। বানরের শরীরে ট্রায়ালের জন্য শর্ত দিয়েছে। এরপর অর্ধশতাধিক পর্যবেক্ষণসহ আরও একটি চিঠি দিয়েছে। অর্থাৎ ভ্যাকসিনটি উৎপাদনের অনুমোদন পেতে আরও অনেক সময় অপেক্ষা করতে হবে। যেখানে আমেরিকার মডার্না তাদের ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য মাত্র চার দিনে নীতিগত অনুমোদন পেয়েছিল। তবে সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান আমাদের সহযোগিতা করেছে।‘বঙ্গভ্যাক্সের

তিনি বলেন, আশার বিষয় হলো- এক ডোজ টিকা অ্যানিমেল ট্রায়ালে কার্যকর এন্টিবডি পেয়েছি আমরা। আশা করছি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেও একই রকম ফলাফল পাব। এটি +৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এক মাস এবং -২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ছয় মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে। সিনথেটিক্যালি তৈরি হওয়ায় এটি ভাইরাস মুক্ত থাকে।

আরো কিছু পোস্ট আপনার জন্য প্রয়োজনে দেখতে পারেন

বাদরি থ্রি ওয়ান থ্রি: তালেবানের ভয়ংকরতম ইউনিট

সুস্থ থাকুন, নিজেকে এবং পরিবারকে ভালোবাসুন। আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান। আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন। পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। প্রতিদিনের আপডেট পেতে আমাদের Facebook লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন।

শেয়ার করতে ভুলবেন না

Check Also

আবারও

আবারও প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে আবেদন জানালেন পরীমনি

আবারও প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে আবেদন জানালেন পরীমনি , সম্প্রতি ঢাকাই সিনেমার ‘ডানাকাটা পরী’ খ্যাত চিত্রনায়িকা ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *