Thursday , December 2 2021
Home / রুপচর্চা / রং ফর্সা করার সহজলভ্য কিছু উপাদান জেনে নিন

রং ফর্সা করার সহজলভ্য কিছু উপাদান জেনে নিন

আশা করি সবাই ভাল আছেন। আজ আপনাদের মাঝে অরেকটি আর্টিকেল নিয়ে হাজির হলাম। আজ আপনাদের জানাবো রং ফর্সা করার সহজলভ্য কিছু উপাদান সম্পর্কে। সবাই নিজেকে ফর্সা ও উজ্জ্বল(Bright) দেখতে চায়। নিজেদের রং আরও একটু উজ্জ্বল করতে অনেকে আমার নামি দামি কস্মেটিক্স ব্যবহার করে থাকেন। অনেকেই আবার এসব করতে গিয়ে পার্শ-প্রতিক্রিয়ার স্বীকার হয়ে থাকেন। কিন্তু আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা খুব কম অর্থ ব্যয় করে পার্শ-প্রতিক্রিয়াহীন ভাবেও রূপচর্চা করে রং ফর্সা করা যায়।রং ফর্সা করার সহজলভ্য কিছু উপাদান

রং ফর্সা
রং ফর্সা করার সহজলভ্য কিছু উপাদান জেনে নিন

রং ফর্সা করার সহজলভ্য কিছু উপাদান জেনে নিন

রং ফর্সা করার সহজলভ্য কিছু উপাদান

চলুন জেনে নেই রং ফর্সাকারী সহজলভ্য কিছু উপকরণ সম্পর্কে।

মধু :
মধুতে(Honey) আছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাস উপাদান। ত্বকের(Skin) যত্নে মধুর জুড়ি নেই। সকালে ত্বকে মধু লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে মধুর বেশ কিছু উপাদান ত্বক শুষে নেয়। ফলে ত্বক মসৃণ ও সুন্দর হয়। এভাবে নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের দাগও চলে যায়। হলুদ দুধের(Milk) সাথে মধু মিসিয়ে মুখে মাখলে ত্বক হয় ফর্সা ও আকর্শনীয়।

পেপে :
পেঁপেতে আছে পুষ্টিকর(Nutritious) উপাদান এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে যেগুলো চুল এবং ত্বকের যত্নে বেশ উপকারী। মিষ্টি পাকা পেঁপেতে ভিটামিন এ এবং পাপেইন এনজাইম রয়েছে যা ত্বকের(Skin) চামড়া মরে যাওয়া রোধে করে এবং প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন প্রদান করে থাকে। এর ফলে ত্বকের আয়ুস্কাল তুলানামূলকভাবে বাড়িয়ে দেয়। এটি ত্বকের পানির চাহিদাও পূরণ করে। এর জন্য এক ফালি পাকা পেঁপের সাথে ৩ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে মুখে মাখুন এবং ২০ মিনিট পরে ঠান্ডা পানি(Cold water) দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

তুলসি :
ত্বকের জন্যও তুলসি এক বিস্ময়। যারা তুলসির রস ত্বকে ব্যবহার করেন তারা বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগ(Skin diseases) থেকে আরোগ্য লাভ করেন, সাথে সাথে স্বাভাবিক ত্বকও হয় আরো সুন্দর আর লাবন্যময়। কাজেই রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে যাওয়া প্রতিকারে অব্যর্থ ঔষধ তুলসির রস, সাথে উপহার সুন্দর ফর্সা ত্বক।
তুলসির কিছু পাতা নিন। শীল-পাটা দিয়ে বেটে কিংবা পিষে পেস্ট করুন। আস্তে আস্তে ত্বকে লাগান। কয়েক মিনিট রেখে হালকা কুসুম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে ৩ সপ্তাহ লাগান। দেখবেন ত্বক(Skin) আগের চাইতে অনেক বেশি ফর্সা দেখাচ্ছে।

গোলাপ জল :
খুব অল্প সময়ে সুন্দর ত্বক পেতে গোলাপ জল অনন্য। গোলাপ ফুল কিনে পাঁপড়িগুলো আলাদা করে একদিন জলে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর প্রতিদিন মুখে ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে যতবার মুখ ধোবেন, ততবারই গোলাপ জল ব্যবহার করবেন। মনে রাখবেন গোলাপ জলে মুখ ধোয়ার সময় কোন ধরনের সাবান ব্যবহার করবেন না। অনেকের ক্ষেত্রে এমনও দেখা গেছে যে গোলাপ জল নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের রং শুধু সুন্দর ফর্সা হয়েছে তা-ই নয়, একটু গোলাপি বর্নও ধারন করেছে।

হলুদ :
ত্বকের(Skin) সৌন্দর্য্যে হলুদের ব্যবহার ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপকমাত্রায় প্রচলিত। হিন্দু মেয়েরা তাদের পায়ে রং মাখাতে হলুদ ব্যবহার করে এবং এটা তাদের কাছে পবিত্র আচার। তবে এখন আর এটা ধর্মীয় আচারে সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণায় প্রমানিত যে হলুদের ত্বকের রং ফর্সা করার গুন আছে। যেহেতু হলুদ দামী বস্তু নয়, তাই আপনি ইচ্ছে করলে আজই এর ব্যবহার শুরু করতে পারেন। মুখে, হাতে, পায়ে নিয়মিত সকালে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হলুদ লাগান। কিছুদিন পরই পার্থক্যটা বুঝবেন। ফর্সা ত্বক! কোন ব্যাপারই না।

দই :
দই ত্বকও ফর্সা করে, শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটা সত্যি। প্রতিদিন সকালে ১ টেবিল চামচ দই নিইয়ে মুখে মাখুন। ৪ সপ্তাহের বেশি লাগবে না আপনার মুখে ত্বক ফর্সা হতে। সেই সাথে ব্রণ থাকলে তাও দূর হবে।

শশা :
শশারও রয়েছে ত্বক ফর্সা করার গুন। কম দামী সবজী হওয়ায় এটির ব্যবহার যে কারো জন্যই উত্তম পরামর্শ। শশাতে আছে এমন সব উপাদান যা মেলানিনের উপস্থিতি কমায়, ত্বকের পুড়ে যাওয়া বা তামাটে হওয়া রোধ করে। আর এসব কারনেই বিশেষজ্ঞরা শশা ব্যবহারের পরামর্শ দেন এবং কিছু অংশ খেতেও বলেন। এটা পেস্টের মত করে লাগাতে পারেন অথবা এর রস লাগাতে পারেন। শশা পেস্ট ত্বকে লাগাবেন, চাক চাক করে কাটা শশার টুকরা চোখের উপর লাগাতে ভুলবেন না যেন। এতে আপনার চোখের নীচে কালো দাগ দূর হবে।

লেবু:
লেবুর রস(Lemon juice)ও ত্বকের জন্য আশ্চর্য্য ফল দেয়। এটা আপনি যে কোন সময় ব্যবহার করতে পারেন, তবে দ্রুত ও ভাল ফলের জন্য দিনে বেশ কয়েকবার লাগাতে পারেন। লেবুর রস মাখালে প্রথম কিছুক্ষন হালকা সূচ ফোঁটার মত অনুভূতি হতে পারে – তবে এটা স্বাভাবিক। কাজেই এটাকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মনে করবেন না। প্রাকৃতিক(Natural) উপাদানগুলোর মধ্যে একমাত্র দই ছাড়া অন্য কোনটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। দইয়ে কাজেই এটাকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মনে করবেন না। প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর মধ্যে একমাত্র দই ছাড়া অন্য কোনটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। কারো কারো ক্ষেত্রে দইয়ে সামান্য এলার্জি হতে পারে। একবারে ১টা লেবুই যথেষ্ট। ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ নিয়মিত লাগান। আয়নায় পার্থক্যটা দেখুন।

টমেটোর রস:
যারা নিয়মিত টমেটো ব্যবহার করেন, তাদের ত্বক হয়ে ওঠে আরো সুন্দর ও উজ্জ্বল। পৃথিবীর অনেক স্থানেই টমেটোকে রুপচর্চার উপকরণ হিসাবে ব্যবহারের প্রচলন আছে। ১টা টমেটো নিয়ে চেপে রস বের করে মুখে লাগান। প্রতিদিন এভাবে ব্যবহার করতে হবে। খুব অল্পদিনেই রং হবে ফর্সা ও উজ্জ্বল।

আরো কিছু পোস্ট আপনার জন্য প্রয়োজনে দেখতে পারে

মানবদেহ এর ১৫টি অজানা ও বিস্ময়কর তথ্য জেনে নিন

https://www.latestbangla.com/archives/15412

সুস্থ থাকুন, নিজেকে এবং পরিবারকে ভালোবাসুন। আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান। আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন। পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। প্রতিদিনের আপডেট পেতে আমাদের Facebook লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন।

শেয়ার করতে ভুলবেন না

Check Also

চুলের যত্ন

শীতকালে চুলের যত্ন নিতে যা করনীয়

আশাকরি সবাই ভাল আছেন। আপনাদের মাঝে আরেকটি আর্টিকেল নিয়ে হাজির হলাম। আজ আপনাদের জানাবো শীতে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *